প্রাথমিকের শিক্ষক বদলিতে নীতিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগ
- আপলোড সময় : ০৫-১০-২০২৬ ০১:২৫:০০ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ০৫-১০-২০২৬ ০১:২৫:০০ পূর্বাহ্ন
স্টাফ রিপোর্টার ::
শাল্লায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক বদলিতে সরকারি নীতিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি এমন অভিযোগ উঠেছে উপজেলা শিক্ষক বদলি যাচাই-বাছাই ও নিষ্পত্তিকরণ কমিটির বিরুদ্ধে। পাঁচজন শিক্ষক কর্মরত থাকা শাসখাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে সহকারী শিক্ষক রত্না রাণী দাসকে তুলনামূলক কম শিক্ষার্থী থাকা রঘুনাথপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলি করা নিয়ে এ অভিযোগ উঠেছে।
একই সঙ্গে বদলীকৃত শিক্ষক রত্না রাণী দাসের স্বামী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা বিভাগের একাডেমিক সুপারভাইজার কালীপদ দাস বদলি কমিটির এক সদস্যের মনোনীত প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করায় সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। যদিও সংশ্লিষ্ট কমিটির এক সদস্য বদলিটিকে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র ও বিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, শাসখাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বর্তমানে ১৬০ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে এবং শিক্ষক রয়েছেন পাঁচজন। অন্যদিকে রঘুনাথপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী সংখ্যা ৬৬ জন এবং শিক্ষকও রয়েছেন পাঁচজন। ফলে ১৬০ শিক্ষার্থীর বিদ্যালয় থেকে একজন শিক্ষক সরিয়ে ৬৬ শিক্ষার্থীর বিদ্যালয়ে তাকে পদায়নের সিদ্ধান্তে শিক্ষক, অভিভাবক ও সচেতন মহলের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
অভিযোগের আরও একটি দিক হলো, শিক্ষক রতœা রাণী দাসের বদলির আবেদন প্রথম দফায় সরকারি বিধিমালা অনুযায়ী না হওয়ায় উপজেলা শিক্ষক বদলি কমিটি তা বাতিল করেছিল। পরে একই শিক্ষক দ্বিতীয় দফায় আবেদন করলে সেই আবেদন অনুমোদন করে তাকে রঘুনাথপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও শিক্ষক বদলি কমিটির সদস্যসচিব পরিমল কুমার ঘোষ বলেন, শিক্ষক রতœা রাণী দাসের প্রথম আবেদন নিয়মবহির্ভূত হওয়ায় রিজেক্ট হয়েছিল, এটা সত্যি। তবে দ্বিতীয় দফায় আবেদনের বিষয়ে কমিটির সবাইকে সরকারি প্রজ্ঞাপন বারবার পড়ে শোনানোর পরও ওই শিক্ষককে শাসখাই বিদ্যালয় থেকে রঘুনাথপুর বিদ্যালয়ে বদলির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বদলি প্রক্রিয়ায় আরেকটি বিষয় নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার অনুপস্থিতিতে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা বিভাগের একাডেমিক সুপারভাইজার কালীপদ দাস সংশ্লিষ্ট কমিটির একজন সদস্যের প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বদলীকৃত শিক্ষক রতœা রাণী দাসের স্বামী।
এ কারণে বদলি সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময় স্বার্থের সংঘাতের বিষয়টি যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়েছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
এ বিষয়ে কালীপদ দাসের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, ভাই বদলিটা যেকোনোভাবেই হোক হয়তো গেছে। তবে বদলি প্রক্রিয়ায় তার ভূমিকা এবং স্ত্রীর বদলির বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি।
শিক্ষক বদলি কমিটির সদস্য ও শাল্লা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল করিম (মাস্টার) বলেন, আমি শুরু থেকেই সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী শিক্ষকদের বদলির কথা বলে আসছি। তারপরও শিক্ষক রতœা রাণী দাস কীভাবে বদলি হয়েছেন, সেটা কমিটির অন্য যারা আছেন তারাই ভালো বলতে পারবেন।
কমিটির অপর সদস্য ও শাল্লা উপজেলা বিএনপির প্রথম যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল আউয়ালের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি প্রথমে কল রিসিভ করেননি। পরে ক্ষুদে বার্তা পাঠানোর পর তিনি ওয়াটসঅ্যাপে কল করে বলেন, শিক্ষক রতœা দাসের বদলিটা মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে করা হয়েছে। তিনি শাল্লার বাইরে রয়েছেন জানিয়ে পরে সরাসরি কথা বলবেন বলেও জানান।
বদলীকৃত শিক্ষক রতœা রাণী দাস বলেন, আমি আবেদন করেই বদলি হয়েছি। এর বেশি আমি কিছু জানি না। এ বিষয়ে সরাসরি কথা বলবেন জানিয়ে তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহন লাল দাশ বলেন, এই বদলিটা স¤পূর্ণ সরকারি নিয়মবহির্ভূত, এমনটা হওয়ার কথা নয়। প্রতিটি উপজেলায় শিক্ষক বদলির কমিটি আছে। ওই কমিটি কীভাবে এই বদলির আবেদন মঞ্জুর করেছে, সেটা আমি বলতে পারব না। তারপরও আমি খোঁজ নিচ্ছি। যদি এমনই হয়, তাহলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্যদিকে শাল্লা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও শিক্ষক বদলি কমিটির সভাপতি পিয়াস চন্দ্র দাস বলেন, কর্মরত পাঁচজন শিক্ষকের স্কুল থেকে শিক্ষক বদলির কোনো সিস্টেম নেই। কিন্তু শিক্ষক রতœা দাস একাধিকবার আবেদন করায় বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করে তাকে বদলি করা হয়েছে।
সিলেট বিভাগীয় প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক এ.কে.এম সাইফুল হাসান বলেন, এসব বদলির বিষয়ে উপজেলা কমিটি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। তবে নীতিমালার বাইরে বদলি করার কোনো সুযোগ নেই। বিষয়টি খোঁজখবর নিয়ে দেখছেন বলেও জানান তিনি।
নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ

স্টাফ রিপোর্টার, দৈনিক সুনামকণ্ঠ